দিকহারা জাহাজী

দিকহারা জাহাজী

গন্ধ পোকার ডানায় ভাসে
 বিষন্নতার ঘ্রাণ,
 জানলা খোলা গোমড়া শহর
 নিঃশ্বাস কুড়ায় প্রাণ। 

 এই চার দেয়ালের নির্বাসনে 
 ভাবনায় জমে ধুলো
 বিষন্নতার নীল শিহরণ 
 তোমায়ও কি খানিক ছুঁলো?

 অবহেলায় থাকছে বাকি
 কত শত প্রতিশ্রুতি
 আশংকার অনির্বান বহ্নিপ্রপাত
 অপেক্ষায় অনুভুতি। 

 নিঃশব্দ স্মরণের ইন্দ্রজাল 
 বোঝে না সময়ের দাবী
 দিকহারা জাহাজীর মতই
 খুঁজছি ঠিকানার চাবি।
আমাদের ছায়া

আমাদের ছায়া

ছায়াদের সাথে কথা হয় কত,
কবিতার মত,
কবিতার মত,
কবিতার মত।

কবিতার সাথে কথা হয় কত,
ছায়াদের মত,
ছায়াদের মত,
ছায়াদের মত।

কবিতারা ভাবে, সব ভাবনার দোষ ;
ছায়ারও তো নাই স্বাধীন সাহস।

আমাদের ছায়া তাই আমাদেরই মত
হারানো শিরদাঁড়ার খোঁজে প্রতিদিন বিব্রত। 
কবিতার ছাইপাশে

কবিতার ছাইপাশে

বোবা কান্না অথবা 
নিঃশব্দ বিষাদ 
দুঃখের বিণুনীতে বাড়ে
অব্যক্ত নিনাদ।

চেনা চেনা অবয়ব 
চেনা চেনা তুমি
না পাওয়ার কোলাহলে 
আকাঙ্ক্ষা মরুভূমি। 

প্রতিদিন বেঁচে থাকার
লৌকিক অভ্যাসে
তুমিহীন রুক্ষতাই
কবিতার ছাইপাশে।
বিদায়ী বিষাদ

বিদায়ী বিষাদ

 রেখে যাই কিছু কথাহীন ভোর,
 নৈঃশব্দের সিঁড়ি ভেঙে, তারপর ;
 অচেনা সকাল আসে, 
 আর ক্লান্ত শহরের পথ;
 স্বাগত জানায় মিছিলের ভীড় 
 অগুনিত অবয়ব স্রোত।
 রেখে যাই কিছু থতমত উদ্বেগ 
 কংক্রিট বাক্স কিছু জমায় আবেগ। 
 চলে যাওয়ার আহবানে
 অচেনা শহরও কাঁদে,
 তুমিও ভেসে যাও প্রিয়তমা 
 বিদায়ী বিষাদে।
স্বপ্ন – এক অমোঘ প্রলোভন

স্বপ্ন – এক অমোঘ প্রলোভন

হতে পারে এই নীলাভ সকাল
হাহাকার কুয়াশায় অবগাহন শেষে
তারপর;
বাতায়ন আর চৌকাঠে হলো
নিঃশর্ত পদচিহ্নের ভীড়।
এই যে অদৃশ্য শ্বাপদ বাস।
এই যে এই আতংক যাপন।
এই রুধির সময়ের হঠাৎ যবনিকাপাত,
হতেও তো পারে।
স্বপ্ন শহরে কোন ব্যাকরণ নাই,
তাই,
নির্বিষাক্ত অক্সিজেন অফুরান।
ফুসফুস এখানে হারে না,
হারে না প্রিয় মুখ কোন।
স্বপ্ন!
এক অমোঘ প্রলোভন!
নির্বোধ বুড়ো খোকা

নির্বোধ বুড়ো খোকা

আমরা তো সব নির্বোধ বুড়ো খোকা
দু'কানে তুলো ঠেসে,
এড়িয়ে চলি জীবনের গ্লানি
মানুষের ছদ্মবেশে।

চোখের উপরে পর্দা ঝুলাই
ইচ্ছে হলে দেখি
যতবার আমি কেঁদেছি জেনো
অর্ধেক তার মেকি।

তোমার চরণে পাথুরে পথ
পাথর ঢেলেছি আরো,
পেছন ফিরে দেখেছি বারবার
যাতে আমায় দেখতে পারো।

এগিয়েছি যত হেসেছি ততই
মুখে যদিও বিষাদের ছবি
তোমার জন্য দুঃখী দুঃখী মুখ
আমি ছলনার মহা কবি।